কিছু হলেই ডিভোর্স নয়, চেষ্টা করুন সমঝোতা করা যায় কিনা

প্লিজ আপনাদের নিজেদের সুখের জন্য আপনাদের জীবদ্দশায় বাচ্চাকে এতিম করবেন না🙏🙏🙏🙏
কিছু দিন আগেকার কথা। একজন ভদ্র মহিলা স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে ৬ মাসের বাচ্চা সহ আমার মানবাধিকার সংস্থায় এসেছিলেন তার স্বামীকে তালাক দেওয়ার জন্য। বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে অনেক সময় খেলা করলাম। বাচ্চাটাও এত সুন্দর এবং মিশুক সে খুব শীঘ্রই আমার সঙ্গে মিশে গেল। কখনো কখনো সে আমাকে পাপা দিচ্ছিলো আবার কখনো কখনো আমার দিকে একভাবে তাকিয়ে ছিল, মনে হচ্ছিল আমি ওর কত দিনের চেনা। পরে, আমি স্বামী স্ত্রী দুজনকে একসাথে ডাকি, তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত বোঝার পর তাদের দুজনকে তালাক দিতে নিরুৎসাহিত করি। এত কিউট একটি বাচ্চা তাদের আল্লাহতালা দিয়েছে সেই বাচ্চাটার কথা বোঝালাম, সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বোঝালাম। হয়তো মনোমালিন্য টা অনেক বড় ছিল । বুঝি একজন নারী কখনো অযথা একজন স্বামীকে ডিভোর্স করতে আসে না। অনেক বোঝানোর পরে অবশেষে মহান আল্লাহর ইচ্ছায় দুজনই সংসার জীবনের ফিরে যান।
যাইহোক ডিভোর্স বর্তমানে এমন একটা পর্যায়ে চলে গেছে যে সামান্য তর্ক বিতর্ক হলে তালাক দিয়ে দেয়! আমার মতে যে সকল স্বামী স্ত্রী বাবা মা হয়েছেন তাদের ডিভোর্স এর সিদ্ধান্তের বিষয়ে অন্তত সন্তানের কথা ভেবে অনেকবার ভাবা উচিত। তালাকের বিষয়টা রাগের মাথায় না হয়ে মল বিরোধের প্রমানসাপেক্ষ হওয়া উচিত।।
সর্বশেষ সকলের উদ্দেশ্যে বলবো বাচ্চা থাকা অবস্থায় দয়া করে কেউ কাউকে ডিভোর্স দেবেন না। বাবা মায়ের মাঝে ডিভোর্স হওয়া সন্তানগুলোর জীবন এতিমের মতোই হয়ে থাকে। জীবনে অনকে সমস্যা থাকবে, অনেক সমস্যার সমাধান ও হবেনা। তারপরও আমি বলবো বাচ্চা থাকা অবস্থায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন সংসার ঠিক রাখার । আপনার চিন্তাও করতে পারবেন না ডিভোর্স পরিবারের সন্তানগুলো কতটা হতাশা আর অসহায়ত্ব নিয়ে বড় হয়।
প্লিজ আপনাদের জন্য আপনাদের জীবদ্দশায় বাচ্চাটাকে এতিম করবেন না।