খুব সহজ সরল এবং খুব চালাক মেয়েরা খুব বেশি প্রতারণার শিকার হয়

ফেঞ্চুগঞ্জ পার হয়ে বিএডিসি এলাকার গরিব পরিবারের বাবা হারা সহজ সরল মেয়ে মিতা (ছদ্ম নাম)। পারিবারিকভাবে মায়ের বাড়ির আত্মীয়তার বিবাহ হয় গোলাপগঞ্জে রণকেলী গ্রামের হাবিব (ছদ্ম নাম) এর সাথে। কিন্তু বিবাহের পর থেকেই তার ওপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন।
হাবিব পেশায় একজন সিএনজি চালক। কিন্তু সে এতটাই অলস যে, সে ঠিকমত কাজ করতো না। সিএনজি চালানোর কথা বলে অন্য কোথাও গিয়ে বসে লুডু খেলত কিংবা কোন গাছ তলায় গাড়ি রেখে ঘুমাতো। বিধায় হাবিব, মিতার ভরণপোষণ খাবার দাবার ঠিক মতো দিতে পারতো না। একপর্যায়ে হাবিব মিতার পরিবারের কাছে যৌতুক চাওয়া শুরু করে। যৌতুক না দিতে পারায় হাবিব ও তার পরিবার মিতার উপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতন করতে করতে একদিন মিতার কাছ থেকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে মিতাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।
বাবার বাড়ি যাওয়ার বেশ কিছুদিন পরে কোন সমাধান না পেয়ে মিতা ও তার মা মানবাধিকার সংস্থার শরণাপন্ন হয়। মিতার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে খোঁজ নিয়ে জানা যায় মিতা তার কাবিনের টাকা সহ সবকিছু স্ট্যাম্পের মাধ্যমে তাদের মাফ করে দিয়ে নিজ ইচ্ছায় বাবার বাড়ি চলে এসেছে। প্রথমত আমরা মূল স্ট্যাম্পটি উদ্ধার করি। অতঃপর প্রকৃত রহস্য জানতে পারি যে, মিতা নিজ ইচ্ছায় চলে আসেনি বরং তাকে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে চলে আসতে বাধ্য করা হয়েছে।
বিষয়টি সমাধানের জন্য মানবাধিকারের পক্ষ থেকে দুই পক্ষকে ডাকা হয় এবং একটি সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে সুন্দর সমাধান হয়। আমরা সর্বপ্রথম হাবিব দৈনন্দিন কাজ ঠিকমতো করে তার পরিবার চালানোর মত ক্ষমতা আছে কিনা এটা পরীক্ষা করার জন্য নিরপেক্ষ তিনজন লোক ঠিক করে দেই। যদি হাবিব ঠিক হতে পারে তাহলে সংসারটা সুন্দরভাবে মিতা করবে মর্মে রাজি হয়। কিন্তু প্রায় পাঁচ মাস চলে যাওয়ার পরেও হাবিব তার দৈনন্দিন কাজ ঠিকমতো করতেছিল না। বরং শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে মিতার কাছ থেকে পকেট খরচ নিয়ে আসতো।এত কিছুর পরেও মিতা যথেষ্ট চেষ্টা করেছে সংসার করার জন্য। কিন্তু অবশেষে হাবিবের এই অলসতা ও স্ত্রী-সংসারের প্রতি অমনোযোগীর জন্য কোনভাবেই মিতা সংসারে টিকতে পারেনি।
অবশেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে মিতার বিবাহের সময় বরপক্ষ বাবার বাড়ি থেকে দেওয়া মালামাল এবং কাবিন এর টাকা উদ্ধার করতে সম্ভব হয়। যদিও কাবিনের টাকা ছেলেপক্ষ কিস্তিতে পরিশোধ করছেন। আজকে তার মোহরানার শেষ কিস্তির টাকা নিতে মিতা এসেছিলেন।
ইতিমধ্য উভয়ের ডিভোর্স লেটারের স্বাক্ষর হয়েছে। ইসলামিক শরীয়ত মোতাবেক একে অপরকে তালাক প্রদান করেছেন। আজকে মিতা এবং হাবিবের সকল লেনদেন শেষ হলো। আমার দেখা মতে ঝগড়াঝাঁটি অন্যান্য বিরোধ যা কিছু হোক না কেন শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ মেয়েরাই স্বামীকে ছেড়ে যেতে চায় না।
মাঝে মাঝে অবাক লাগে এই পৃথিবীতে মিতার মতো সহজ সরল কত মেয়ে কত ত্যাগ স্বীকার করে শেষ পর্যন্ত স্বামীর সংসার ছাড়তে বাধ্য হয়!!!!