সিলেটের জৈন্তাপুরের গরীব দিন মজুর পরিবারের মেয়ে সুফিয়া (ছদ্ম নাম)। গ্রামের অন্য পাঁচটি মেয়ের মতই সুফিয়ার বেড়ে ওঠা। প্রতিবেশী মোঃ লিবির নজর পড়ে সুফিয়ার উপর। সুফিয়া কে উত্ত্যক্ত করতে করতে একটা পর্যায়ে বিষয়টি খুব গভীর হয়। বিষয়টি বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হলেও সুপিয়ার পরিবার গরিব বিধায় স্থানীয়ভাবে কোন বিচার পাচ্ছিল না। বরং স্থানীয় মোড়ল দ্বারা সুফিয়ার বাবা-মা বারবার অপমানিত অপদস্ত হতে হয়েছে। নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তৎকালীন সময়ে থানায় অভিযোগ করার পরেও অভিযোগটা আমলে নেওয়া হয়নি। এরই মাঝে সুফিয়ার বাবা মানবাধিকার সংস্থার শরণাপন্ন হন। আমরা বিষয়টির আলোকে আবেদন নিয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই শুরু করে ঘটানার সত্যতা পাই। যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে বিচারক নামের যে আমলা তাদের সন্ধানও মেলে। এই সকল আমলা আমাদের প্রায় সকল গ্রামেই কম বেশি পাওয়া যায়। যারা টাকার বিনিময় সত্য ঘটনাকে চাপা দিয়ে বিচারক সেজে বিচার করে। আমরা বিষয়টি নিয়ে হাত দেওয়ার পর ঐ সমস্ত আমলাবৃন্দ সুবিধা ভোগ করতে না পেরে আস্তে আস্তে সরে যায়। আর তাদের সরে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় ছিল না। কারণ মানবাধিকার এ আমলাদের কোন জায়গা নেই। অতঃপর উভয়পক্ষের প্রকৃত অভিভাবক নিয়ে বসা হয়। সকল আলাপ আলোচনা শেষে সুফিয়া এবং লিবির পারিবার উভয়কে বিবাহের বন্ধনে আবদ্ধ কর্মী মর্মে সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাংলাদেশের বৈবাহিক আইন ও ইসলামিক আইন অনুযায়ী তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। এই আমলারা চাইলে নিরপেক্ষভাবে এই সমাধানটি স্থানীয় পর্যায়ে দিতে পারতেন। কিন্তু সামান্য কিছু টাকার জন্য তারা এই সমস্ত গরিব মানুষকে হয়রানি করে থাকেন। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই এই আমলাদের দেখা যায়। এদের কারণেই একটা সুস্থ ঘটনা অসুস্থ হয়ে ওঠে, এদের কারণেই ঝগড়া ফ্যাসাদ দ্রুত শেষ না হয়ে স্থায়ীকরণ হয়। তাই এরকম আমলাদের বিরুদ্ধে কঠিন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সবার আগে আমাদের সচেতন হওয়া উচিত। কোন ঘটনা ঘটলেই আমাদের কোন আমলা বা দালালের শরনাপন্ন হওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে থানা, লিগ্যাল এইড কিংবা স্বচ্ছ মানবাধিকার সংগঠনের এর শরণাপন্ন হওয়া উত্তম।
