দুবাই প্রবাসীর স্ত্রী সুমা বেগম (ছদ্ম নাম), শ্বশুর কর্তৃক ধর্ষণের চেষ্টা অভিযোগ এনেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে সিলেটের শাহপরান থানাধীন ধনকান্দি গ্রামে। এই বিষয়ে স্থানীয়ভাবে অনেকবার বিচার সালিশ হলেও সমাধান হয়নি । ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি। প্রবাসীর স্ত্রী মানবাধিকার সংস্থা একটি আবেদন করেছেন। তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন তার শ্বশুর খুবই খারাপ প্রকৃতির আইন অমান্যকারী, উগ্র, দুশ্চরিত্র, ধর্ষণ ও প্রতারণাকারী প্রকৃতির লোক। আবেদনকারী বিবাদীর মেজ পুত্রবধূ এবং তার স্বামী প্রবাসে (দুবাই) অবস্থানরত। স্বামী বিদেশ যাত্রার পর হতে ৬ বছরের ছেলে সন্তান জাকুওয়ান সহ শ্বশুর বাড়িতে নিজ গৃহে বসবাস করিয়া আসিতেছেন। কিন্তু শ্বশুর একজন দুশ্চরিত্র ব্যক্তি। তিনি ইতিপূর্বে চারটি বিবাহ সম্পন্ন করিয়াছেন, তবুও নারীদের প্রতি অশোভন আচরণ ও খারাপ দৃষ্টিতে কথাবার্তা বলেন। এছাড়া তার শ্বশুর ইতিপূর্বে কাজের মেয়েকে ধর্ষনের জন্য জেল খেটেছেন। বেশ আগে থেকেই তিনি বিভিন্ন সময়ে অশালীন প্রস্তাব প্রদান করেন। প্রথমে মান-সম্মানের ভয়ে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও পরবর্তীতে তিনি আমাকে গভীর রাতে তার বেডরুমে গিয়ে হাত-পা মালিশ করার প্রস্তাব দেন, তখন সুমা অপরাগতা প্রকাশ করেন। কিছুদিন পূর্বে শ্বশুর তার গায়ে জোরপূর্বক হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি চিৎকার দেন এসময় তিনি রুম ত্যাগ করেন। ভয় পেয়ে সুমা নিজের আত্মসম্মানের কারণে নিজ পিত্রালয়ে চলে যান এবং প্রায় ৪৫ দিন সেখানে অবস্থান করি। পরবর্তীতে প্রবাসে থাকা স্বামী বিষয়টি জানতে পেরে তাহাকে পুনরায় সংসারে ফিরে আসার অনুরোধ করেন। স্বামীর আকুতি এবং সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বাধ্য হয়ে শ্বশুর বাড়িতে ফিরে আসেন। কিন্তু ফিরে আসার পর শ্বশুর পুনরায় তার প্রতি অশালীন আচরণ ও অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত হইবার চেষ্টা করেন। তখন সুমা বিষয়টি স্বামী সহ পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনদের অবগত করেন। এরই মাঝে গত ১০/১১/২০২৫ইং তারিখ দুপুর ১২:০০ ঘটিকায়, আমি আমার শয়নকক্ষে অবস্থান করাকালীন সময়ে তার কক্ষে প্রবেশ করিয়া ধর্ষণের উদ্দেশ্যে গায়ে হাত দেয় এবং আমার শরীরের শস্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করে ধর্ষনের চেষ্টা করেন। এসময় সুমা চিৎকার করলে তিনি রুম থেকে বের হয়ে ধারালো দা হাতে নিয়ে আমাকে ও আমার সন্তানকে হত্যার হুমকি প্রদান করেন। আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ও স্থানীয় মুরব্বিয়ানগণ ছুটে এসে শ্বশুরকে নিবৃত্ত করেন। পরবর্তীতে সে বিষয়টি স্বামীকে অবগত করিলে পারিবারিক ও স্থানীয় ভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়ে ব্যর্থ হয়। বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার পান নাই। এরপরেও সে স্বামীর বাড়িতেই ছিল। এমতবস্থায় হঠাৎ গত ১৮/১১/২০২৫ইং তারিখে সন্ধা আনুমানিক ৭:০০ সাত ঘটিকার সময় ঘরের মধ্য খাটে শুয়ে ছিল। এরই মাঝে শ্বশুর তার ঘরে প্রবেশ করে আমার মুখ চেপে ধরে জামা ও সেলোয়ার খুলার চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তিতে শ্বশুর কর্তৃক হাত ও বুক ক্ষত হয়। এসময় শ্বশুর তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে আমার মুখ থেকে শ্বশুরের হাত সরে যায়। এসময় সুমার শোর চিৎকার করলে প্রতিবেশিরা আসলে শশুর ঘর থেকে বের হয়ে যায়। এসময় সে কোন উপায় না পেয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরবর্তীতে স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে স্বামীর নির্দেশে আইনি সহায়তার জন্য মানবাধিকার সংস্থার শরণাপন্ন হয়েছেন। ইতিমধ্যে সংস্থার পক্ষ থেকে ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে আইনি সহায়তা দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে । আশা করি খুব শীঘ্রই ভালো একটা আপডেট দিতে পারব।
