সুন্দর একটি সংসার ভাঙার জন্য শাশুড়িরাই যথেষ্ট

শাশুড়ির কুপরামর্শে দাম্পত্য জীবন অবশেষে তালাকে পরিণত হলো
সুন্দর একটি সংসার ভাঙার জন্য শাশুড়িরাই যথেষ্ট
আমার কোলে থাকা শিশু সন্তানটিকে বলবো মাফ করে দিস মা। আমি পারলাম না তোর বাবা মাকে এক করতে। বড় হয়ে আমাকে অভিশাপ দিস না মা। বিশ্বাস কর, আমি যথেষ্ট চেষ্টা করেছি তোর বাবা-মার সংসার জোড়া লাগাতে। কিন্তু বাস্তবতার কাছে আমি হেরে গিয়েছি।
কোলে থাকা ছোট শিশু বাচ্চাটি যার বয়স সবে মাত্র এক মাস একদিন। বাড়ি সিলেটের গোয়াইনঘাটে । এখনো সে চিনতে শেখেনি কে তার বাবা, কে তার মা। কিন্তু এই একমাস একদিন বয়সে শিশু বাচ্চাটি মা-বাবা থাকতেও এতিম হতে হলো। শিশু বাচ্চাটি পৃথিবীতে আসার আগেই মায়ের গর্ভে থাকাকালীন ডিসিশন হয়েছিল শিশু বাচ্চাটি জন্মের পরে বিবাহ বিচ্ছেদ হবে। আমি চেষ্টা করেছিলাম বাচ্চা জন্মের পরে হয়তোবা বাবা-মা সহ পরিবারের সদস্যদের মন ঘুরে যেতে পারে। কিন্তু তা আর হলো না, শেষ পর্যন্ত দাম্পত্য জীবন বিচ্ছেদে পরিণত হলো। অল্প কিছুক্ষণ আমার কোলে শিশুটি ছিল। অত্যন্ত মিশুক এই শিশু সন্তানটি। আমার কোলে যাওয়ার পর সে আমার সঙ্গে তার ভাষায় কথা বলতেছিল। আমার কাছে মনে হচ্ছিল ও বারবার বলতেছে তুমি আমার বাবা মাকে একসঙ্গে করে দাও। এ সময় আমি খুব আবেগী হয়ে গিয়েছিলাম। সত্যি বিষয়টি অনেক কষ্টকর ছিল। আমার কাছে ফরিয়াদ জানাই কোন বিচার করতে গিয়ে এমন ঘটনার সম্মুখীন যেন আমার কখনো আর হতে না হয়।
তবে পুরো ঘটনা বিশ্লেষণ করে যেটা পেয়েছি এখানে মেয়ের মা-বাবা এবং ছেলের মায়ের পারস্পরিক মতবিরোধের জন্যই সংসারটি ধ্বংস হয়ে গেল। বিশেষ করে মেয়ের মা যদি চাইতেন তাহলে সংসারটা টিকানো সম্ভব হইতো। তিনি সবসময়ই মেয়েকে খারাপ পরামর্শ দিয়ে গিয়েছেন। আমার কাছে অভিযোগের পরে মেয়ের মা সব সময় চেয়েছেন কিভাবে কাবিনের টাকা উত্তোলন করে কত দ্রুত ডিভোর্স সম্পূর্ণ করা যায় এবং এই কথায় মেয়ের বাবা ও একমত পোষণ করে আমাকে ডিভোর্স করার জন্য বারবার চাপ সৃষ্টি করেছেন।
আশ্চর্যজনক বিষয় হল যেদিন এই ছোট শিশু বাচ্চাটি জন্মগ্রহণ করে ঐদিন বিকেলেই আমাকে ফোন করে মেয়ের বাবা বলেন ডিভোর্সের ব্যবস্থা আমি কখন করব এবং এই সন্তান ছেলেপক্ষকে কোন সময় হস্তান্তর করব। অবাক লাগে এরকম মা-বাবার আচরণে , সাথে ঘৃণা করি ও ধিক্কার জানাই এই সমস্ত মা-বাবাকে। আসলে একটা সংসার ভাঙার জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে শাশুড়িরাই দায়ী হয়ে থাকেন। আমি ডিভোর্সের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত ছেলে মেয়েকে আলাদা করে আলোচনার সুযোগ দিয়েছি কিন্তু উভয়পক্ষ তাদের সিদ্ধান্তে অটল।
পরিশেষে এই পরিবারটি আপোষের ডিভোর্স সম্পন্ন হয়েছে। সন্তানটি বর্তমানে মায়ের কাছে দেওয়া হয়েছে এবং সন্তানের ভরণপোষণ বাবা দিবেন। মেয়ের কাবিনের মোহরানার টাকা ও ব্যবহার সময় বাবার বাড়ি থেকে দেওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। খুব কষ্ট লাগে শুনেছি ছেলে ডিভোর্স এর এক সপ্তাহ পরেই বিয়ে করবে, ডিভোর্সের আগেই মেয়ে দেখে কমপ্লিট করে রেখেছে এদিকে মেয়ে ও তার পরিবার কাবিনের মোহরানার টাকা পেয়ে মহা খুশি।
তাহলে সকল দোষ কি এই শিশু সন্তানের??? পৃথিবীতে আসা কি তার জন্য অভিশাপ??? এরা কি একবার ভাবলো না, এই সন্তানের ভবিষ্যৎ কি হবে?? যাদের সন্তান আছে তারা ডিভোর্সের আগে একবার নয় হাজার বার ভাবুন। প্লিজ অন্তত সন্তানের কথা ভেবে সংসারটাকে ছিন্নভিন্ন করবেন না।