স্ত্রী কে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে, স্ত্রীর শরীরের কাপড় চোপড় সরিয়ে ভিডিও করে ভিন্ন স্ট্যাইলে যৌতুক দাবি করে শারীরিক নির্যাতন, ভুক্তভোগীর পাশে মানবাধিকার

আমাদের দেশে সত্যিকারে অনেক মেয়ে আছে যারা যৌতুক ও নির্যাতনের শিকার।
মাদক এবং যৌতুকের নেশা মানুষকে অমানুষ করে দেয়। সিলেটের শাহপরান( রহঃ) থানাধীন সাদিপুরের মেয়ে বিথি (ছদ্ম নাম) এবং কুশিঘাটের ছেলে কামালের পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। বিবাহের কয়েক দিন পর হতেই বাবার বাড়ি হতে সিএনজি কিনে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। এদিকে মেয়ের বাবা গরীব। তিনি অন্যের সিএনজি ভাড়া করে চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। যৌতুক না পেয়ে প্রায়ই মেয়েটির নির্যাতনের শিকার হতে হয়। কামাল মাদকাসক্ত। তাই প্রায় প্রতি রাতেই মাদক সেবন করে বিথির সাথে সর্ব দিক দিয়ে খারাপ আচারন করে।
একদিন বিথিকে শারীরিক নির্যাতন করার ফলে সে খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরবর্তী রাতে বিথির শরীর ব্যথার জন্য ঔষধের কথা বলে কামাল ঘুমের ঔষধ খাইয়ে দেয়। ঘুমন্ত অবস্থায় কামাল বিথির শরীরের সকল পোষাক খুলে বিভিন্ন ভঙ্গিতে ভিডিও ধারন করে। পরবর্তী দিন বিথীকে সেই ভিডিও দেখিয়ে বাবার বাড়ি হতে সিএনজি আনতে বলে। এখানেই শেষ নয় এই ভিডিও বিথির বোন জামাইয়ের কাছে পাঠানো হয়। উল্লেখ্য যে এত নির্যাতনের শিকার হয়েও গরীব মা বাবার কথা ভেবে বিথি বিষয়টি সহ্য করে গিয়েছেন। আমাদের সমাজে এমন অনেক মেয়ে আছে যারা এমনই নির্যাতন সহ্য কারে যাচ্ছে।
ভিডিও পাওয়ার পর বিষয়টি তখন পুরো ঘোলাটে হয়ে পড়ে। অতঃপর বিথির অভিভাবক বিথিকে স্বামীর বাড়ি হতে নিয়ে আসে। পারিবারিক ভাবে বসা হলেও কোনো সমাধান হয়নি বরং কামাল ক্ষিপ্ত হয়ে এক রাতে বিথির বাবার ভাড়ায় চালিত সিএনজিতে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সব পুড়ে শেষ। এত কিছুর পরেও গরিব বিধায় বিথির পরিবার থানা কিংবা আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন নি। থানা কিংবা আদালতে শরণাপন্ন না হওয়ার আরেকটি কারণ হলো কামাল মাদকাসক্ত কিশোরগ্যাংগের সঙ্গে জড়িত ছিলো যেকোনো সময় পথে ঘাটে সে খারাপ কিছু করতে পারে । তাই এই ভয়ে তারা সামনে আগ বাড়ায়নি।
সর্বশেষ কামালের নির্যাতন এতটাই খারাপ ছিল যে, তারা কোন উপায় পাচ্ছিল না। এমত অবস্থায় মানবাধিকার সংস্থার শরণাপন্ন হন। এই সময় বিথি অন্তঃসত্ত্বা । সংস্থার পক্ষ থেকে বীথির সকল অভিযোগের তথ্য যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পাওয়া যায়। সংস্থার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিথি সুন্দর একটা সমাধানও পেয়েছে। সমাধানে বিথির পরিবারের খুবই খুশি।
কিন্তু ভাবার বিষয় মানুষ এত খারাপ হতে পারে!!! যৌতুক এবং মাদকের জন্য এতটা নিচে নামতে পারে!! তাই প্রতিটি পরিবারের প্রতি অনুরোধ, মেয়ে বড় হওয়ার পর হতাশাগ্রস্ত না হয়ে , তাড়াহুড়া না করে, যে ছেলের হাতে তুলে দেবেন অন্তত তার প্রসঙ্গে একটু খোঁজখবর নিয়ে সময় সাপেক্ষ বিয়েটা সম্পন্ন করবেন।