বিয়াই বিয়ানের প্রেমের সম্পর্কে পৃথিবীতে আসলো নিষ্পাপ শিশু,
পিতৃত্ব পরিচয় দাবিতে শিশুটির পাশে মানবাধিকার সংস্থা আসক
ছবিতে থাকা নিষ্পাপ মায়াবী চেহারার শিশুটির এই পৃথিবীতে জন্ম নেওয়াই যেন তার অপরাধ ছিলো। ঘটনাটি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় এবং এই ঘটনা কিছুদিন পূর্বের। বিয়াই এবং বিয়ানের মধ্য (বিয়াই-বিয়াইন বলতে, মেয়ের বোন ছেলের ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে, এই সম্পর্কটাকে এক এক এলাকায় একেক নামে ডেকে থাকে। বিশেষ করে সিলেটে এটাকে তালতো ভাই বোন বলে ) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক থেকে তাদের মধ্য শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়। বিয়াইন অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিয়াই খুব বিপদে পড়ে যায়। চেষ্টা করে গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দেওয়ার কিন্তু ততক্ষণে বিয়াইন ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বিধায় কোনভাবেই বাচ্চা নষ্ট করা সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে কল ধরে পৃথিবীতে আসে ফুট ফুটে এই নিষ্পাপ সন্তানটি। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়ে পড়লে বিয়াইন ও তার পরিবার চরম চাপের মুখে পড়ে যায়। স্বীকার করতে বাধ্য হয় এই বাচ্চার জন্মদাতা কে। অন্যদিকে বিয়াই ঘটনা ততক্ষণে অস্বীকার করে ফেলছে। ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, সমাজ বিয়াইনের পরিবার সহ গ্রাম থেকে বের করে দেয়, এলাকার চেয়ারম্যানের কাছেও বিচারজেকোন জায়গা হয়নি। এই পরিবারটি অনেক জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে জায়গা না পেয়ে খুব বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এ সময় তারা নাকি দুই দিন না খেয়ে ছিল । বাড়ি থেকে যখন তাদের বের হতে হয়েছে তখন তারা তেমন কিছু নিয়ে বের হতে পারেনি। এমতাবস্থায় তারা আমাদের অফিসের সন্ধান পায়। মেয়েটি ও তার পরিবার আমাদের অফিসে এসে লিখিত অভিযোগ করলে সংস্থার একটি প্রতিনিধি দল ঘটনার সত্য তথ্য গঠনে মাঠে নামেন এবং ঘটনার সত্যতা পান। কিন্তু দুঃখের বিষয় বিয়াই এরই মধ্য তিনি ক্যানাডার ভিসা কনফার্ম করে ফেলেছেন। যেদিন লাগিছ গুছিয়ে বিয়াই ক্যানাডার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হবেন ঠিক ওই সময় মানবাধিকারের টিম বিশ্বনাথ থানার পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বিয়াই এর বাড়িতে হাজির। মানবাধিকারের টিম ও পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে পিছনের দরজা খুলে বের হয়ে ধান ক্ষেত ভিতর দিয়ে বিয়াই দৌড়ের উপরে দৌড়। ওই সময় বাড়িতে উপস্থিত অভিভাবকবৃন্দ এবং এলাকার মুরুব্বিয়ানবৃন্দ একদিনের মধ্যে ঘটনার সমাধান করার আশ্বস্ত করেন। সারারাত প্রচন্ড হুমকির মুখে পড়ে যাই, একের পর এক ফোনে হুমকি আসতে থাকে। কিন্তু আমি আমার সিদ্ধান্তে অনড়, নিষ্পাপ শিশুর পিতৃত্ব পরিচয় চাই। উপায় না পেয়ে পরবর্তী দিনেই বিয়াই ও তাদের পরিবার এবং স্থানীয় মুরুব্বিগণ সহ অনেক নেতা মানবাধিকার কার্যালয়ে আসেন। আলহামদুলিল্লাহ অনেক আলাপ আলোচনা শেষে ৪,০০,০০০/- (চার লক্ষ টাকা) দেন মোহরনায় বিয়াইর সঙ্গে বিয়ানের বিবাহ সম্পন্ন হয়। ছোট নিষ্পাপ শিশুটি পিতৃত্ব পরিচয় পায়। বিয়াইন ও তার পরিবার সমাজে স্থান পায়। আমাদের মানবাধিকার কর্মীদের আপ্রাণ প্রচেষ্টায় যখন এই ছোট শিশুটি যখন তার পিতৃত্ব পরিচয়ের অধিকার পেলো, একজন নারী ও তার পরিবার যখন সমাজে তাদের সামাজিকভাবে বসবাস করার অধিকার পেল তখন একজন মানবাধিকার কর্মী হিসেবে যে আত্মতৃপ্তি, সুখ এবং শান্তি পাওয়া যায় তা পৃথিবীর অন্য কিছুতে পাওয়া সম্ভব নয়।
তাই প্রেমিক-প্রেমিকাদের উদ্দেশ্যে বলছি আমি প্রেমের বিপক্ষে নই , তবে অবৈধ সম্পর্কের পক্ষেও নই।
