মজিদা বেগম (৬০), স্বামী-মৃত অসির আলীর স্ত্রী। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রামনগর গ্রামের এই অসহায় মা স্বামী মারা যাওয়ার পর সন্তানের অবহেলায় ভাত-কাপড়ের অভাবে ভিক্ষা করে জীবন চালাতে বাধ্য হন।
তার তিন ছেলে বড় ছেলে ইছামিয়া দিনমজুর, মেজ ছেলে ফজল আহমদ সিএনজি চালক এবং ছোট ছেলে মুছা মিয়া টমটম চালক। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, জীবনের শেষ বেলায় এই মায়ের পাশে কেউ নেই।
ভিক্ষা করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে তিনি অজ্ঞাতনামা হিসেবে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। বিষয়টি প্রথমে সংবাদ আকারে তুলে ধরেন প্রাইম সিলেটের সাংবাদিক ফরহাদ।
গতকাল রাত আনুমানিক ১:২৫ মিনিটে ওসমানী মেডিকেলে ভিজিটে গিয়ে রকিব আল মাহমুদ এই মায়ের সঙ্গে দেখা করেন। তার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বণেন। তার কষ্টের গল্প সত্যিই হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও অর্থের অভাব এবং অভিভাবক না থাকায় তার অপারেশন পর্যন্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না।
আলহামদুলিল্লাহ এবং তিনি এই মায়ের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
আমরা অনেকেই বৃদ্ধাশ্রমের বিপক্ষে কথা বলি। কিন্তু প্রশ্ন হলো
**এই মায়ের মতো মানুষদের জন্য আমাদের করণীয় কী?
**এমন কোনো মানবিক মানুষ কি আছেন, যিনি এই মায়ের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী?
**এমন কেউ কি আছেন, যিনি আইনি ও সামাজিকভাবে সন্তানদের তাদের মায়ের প্রতি দায়িত্বশীল করতে আমার সঙ্গে কাজ করবেন?
**এমন একজন মানুষ কি এগিয়ে আসবেন, যিনি এই মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে তার প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে সহযোগিতা করবেন?
আজ মজিদা বেগমের ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয় এটি আমাদের সমাজের বিবেকের প্রশ্ন?
আসুন, আমরা সবাই মিলে একজন অসহায় মায়ের পাশে দাঁড়াই। হয়তো আমাদের সামান্য উদ্যোগই তার জীবনে আবারও নিরাপত্তা, সম্মান ও ভালোবাসা ফিরিয়ে আনতে পারে।
মানবতার এই আহ্বানটি বেশি বেশি শেয়ার করুন, যেন বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবার নজরে আসে এবং এই মা তার ন্যায্য অধিকার ফিরে পান।
