Rakib Al Mahamud

ধ-র্ষ-ণ মামলা আপোষ করতে সিলেট শেখঘাট এলাকার কিছু মুরব্বি বাদী সহ মানবাধিকার সংস্থার ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন

সারা বাংলাদেশে ধর্ষণের বিচারে যখন জনগণ মাঠে নেমেছে তখন ধ-র্ষ-ণের মামলা আপোস/ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছেন সিলেট শেখঘাট এলাকার কিছু মুরুব্বিগণ। প্রায় এক বছর পূর্বে গোলাপগঞ্জ থানা এলাকার বাসিন্দা নিজ বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত ঘরে ১২ বছরের একজন কিশোরী শেখ ঘাট এলাকার একটি ছেলে কর্তৃক ধ-র্ষ-ণের শিকার হয়। ধ-র্ষ-ক গোলাপগঞ্জ তার মামার বাড়িতে বসবাস করতেন। বিষয়টি গোপন সূত্রে মানবাধিকারের কাছে সংবাদ আসার পর মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ হতে আমি এবং আমার একটি টিম সরজমিনে পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেলের ওসিসি বিভাগে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে মেয়ের মা বাদী হয়ে গোলাপগঞ্জ থানায় মামলা করলে ওসি সাহেব মামলাটির রেকর্ড করেন। আসামিও গ্রেপ্তার হয়। বর্তমান আসামি জেল হাজতে রয়েছে। এই মামলাটি শুরু থেকে এই পর্যন্ত মানবাধিকার সংস্থা আসকের অর্থায়নে আইনি সহায়তা সহ এই মেয়ের পরিবারের মামলা পরিচালনার জন্য যত ধরনের খরচ প্রয়োজন সব খরচ বহন করে পরিচালিত হয়ে আসছে। ইতিমধ্য শেখঘাট এলাকার কিছু পঞ্চায়েত পরিচয়দানকারী এবং ছোটখাটো রাজনীতি পরিচয় তাদের রয়েছে এমন কিছু লোক মামলাটি আপোষ করার জন্য বাদীকে ও বাদীর পরিবারকে জোরালো চাপ দিয়ে আসছেন। মামলা উঠানোর জন্য বাদীর সাথে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন। বাদী তিক্ত হয়ে ঘটনাটি আমাদের জানান এবং ওই মুরুব্বিগণকে বলে দেন যে মানবাধিকার সংস্থা ছাড়া কোন কিছুই তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এমত অবস্থায় ঐ সকল মুরুব্বিগণ আমাকে এবং আমার সংগঠনকে বিভিন্ন কৌশলে মামলা আপোষ/তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। উনারা চাচ্ছেন কোনো না কোনো ভাবে আমি যেন, এই অসহায় পরিবারটির পাশ থেকে সরে যাই। চারিদিকে যখন ধর্ষণের বিচারে আমরা মাঠে নেমেছি তখন এই বিষয়টি আপনি কেমন ভাবে দেখছেন। এবং আমার এবং আমার মানবাধিকার সংস্থার এখন কি করনীয় আপনারা পরামর্শ দিয়ে জানাবেন প্লিজ।

ধ-র্ষ-ণ মামলা আপোষ করতে সিলেট শেখঘাট এলাকার কিছু মুরব্বি বাদী সহ মানবাধিকার সংস্থার ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন Read More »

নারী নির্যাতনের পাশাপাশি এই সমাজে পুরুষও খুব নির্যাতিত

কিন্তু পুরুষ নির্যাতন আইন না থাকার কারণে পুরুষ অসহায় হয়ে নিরবে নির্যাতন সরে যায়।গোয়াইনঘাটের আফতাব মিয়া। স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধ সংক্রান্ত বিষয়ে দীর্ঘদিন চলছিলো স্থানীয় সালিশ, আদালতে মামলা সহ একাধিক হয়রানী। আফতাব মিয়ার দাবি ছিল তিনি পুরুষ নির্যাতনের শিকার। কিন্তু স্থানীয় সালিশ ও আদালত তার এই দাবি মানতে নারাজ। অবশেষে মানবাধিকার সাংগঠনের শরণাপন্ন হন। আমরা তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখি সত্যিকার অর্থে আফতাব মিয়া শশুর শাশুড়ি ও স্ত্রী কর্তৃক পুরুষ নির্যাতনের শিকার। আফতাব মিয়ার শ্বশুর শাশুড়ির সঙ্গে কথা বলে যেটা বোঝা যায়, তারা চায় মেয়ের সংসার করার প্রয়োজন নেই, কাবিনে টাকা হলেই চলে। এই শর্তে আফতাব মিয়ার স্ত্রীও একমত। অবশেষে সংসারটি ভেঙে গেল। যদিও বিচারের শেষ পর্যায়ে স্ত্রী বুঝেছিল যে, সে ভুল করতেছে । বাবা-মার কথার ফাঁদে পা দিয়েছে কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। কাবিনের দেনমোহরার কাছে হেরে গেল একটি দাম্পত্য জীবন। অবশ্য বছরের পর বছর কোনো হয়রানি নয়, মাত্র এক মাস দশ দিনের মধ্য সম্পূর্ণ বিরোধের সমাপ্তি ঘটেছে। সংক্ষিপ্ত সময়ে দীর্ঘদিনের একটি বিরোধ শেষ করতে পেরেছি এটাই আমাদের বড় প্রাপ্তি।

নারী নির্যাতনের পাশাপাশি এই সমাজে পুরুষও খুব নির্যাতিত Read More »

সম্পূর্ণ আমার নিজ অর্থায়নে অসহায় গরীব এক কৃষক বাবার চিকিৎসার দায়িত্ব নিল আসক

আলহামদুলিল্লাহ অপারেশন সফলভাবে হয়েছে। সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ইছামতি হোসেনপুর গ্রামের একজন সাধারণ কৃষক ফজলু মিয়া । আট সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। দীর্ঘদিন ধরে একটি জটিল রোগে ভুগছিলেন। অর্থের অভাবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারছিলেন না। ধীরে ধীরে রোগটি আরও জটিল আকার ধারণ করে ক্যান্সারের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। অসহায় এই মানুষটির চোখে তখন ছিল শুধু অনিশ্চয়তা, আর পরিবারের চোখে ছিল প্রিয় মানুষটিকে হারানোর ভয়। ঠিক সেই সময় ফেসবুকে আমাদের বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম দেখে তাজুল ইসলামের মেয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের অসহায়ত্বের কথা শুনে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হয়। মহান আল্লাহর অশেষ রহমত এবং আমাদের প্রিয় সংগঠন আসকের সম্মানিত উপদেষ্টা ডাঃ মোঃ আলমগীর আদিল সামদানী স্যারের আন্তরিক সহযোগিতা ও দক্ষ চিকিৎসায় তাজুল ইসলামের অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী বিষয় হলো মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ডাঃ আলমগীর আদিল সামদানী স্যার অপারেশনের জন্য কোনো ধরনের সম্মানী গ্রহণ করেননি। আর রোগীর যাতায়াত, ওষুধ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় বহনের সৌভাগ্য আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। এর জন্য আমি মহান আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি। সত্যি বলতে, মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছা আমার অনেক। কিন্তু সামর্থ্য খুবই সীমিত। আমি কোনো বিত্তশালী মানুষ নই, একজন সাধারণ মধ্যবিত্ত। তবুও যখন দেখি আমার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় একটি পরিবারে আবার হাসি ফিরে আসে, তখন মনে হয় এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না।আপনাদের সকলের কাছে আমার একটাই অনুরোধ, আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন জীবনের বাকি সময়টুকু এভাবেই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শক্তি, সাহস ও সামর্থ্য আল্লাহ আমাকে দান করেন। কারণ, মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেয়ে বড় ইবাদত আর খুব কমই আছে।

সম্পূর্ণ আমার নিজ অর্থায়নে অসহায় গরীব এক কৃষক বাবার চিকিৎসার দায়িত্ব নিল আসক Read More »

জেলখানার দেয়ালের ওপারেও আছে বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা

জেলখানার প্রতিটি দেয়ালের আড়ালে শুধু অপরাধী নয়, অনেক নিরপরাধ মানুষও জীবন কাটান। আর অপরাধী হলেও, একজন মানুষকে সুস্থ ও সুন্দর জীবনে ফিরে আসার সুযোগ করে দেওয়া আমাদের সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব।একবার ভেবে দেখুন, দীর্ঘদিনের নিঃসঙ্গতা একজন মানুষের মানসিক অবস্থার ওপর কতটা প্রভাব ফেলে। তাই সরকারের পাশাপাশি সমাজের মানুষ হিসেবেও আমরা জেলখানার নিয়ম মেনে ধর্মীয় গ্রন্থ, শিক্ষামূলক বই, বই পড়ার উপকরণ, খেলাধুলার সামগ্রীসহ ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা পৌঁছে দিতে পারি।আমি নিজেও সময়ে সময়ে এই ছোট্ট উদ্যোগের অংশ হওয়ার চেষ্টা করি। কারণ আমি বিশ্বাস করি, একটি ভালো বই, একটি সুন্দর শিক্ষা কিংবা একটি আন্তরিক উদ্যোগ কারও জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।আসুন, আমরা সবাই মিলে এমন একটি সমাজ গড়ি, যেখানে শাস্তির পাশাপাশি সংশোধন, মানবিকতা ও নতুন করে বেঁচে ওঠার সুযোগও নিশ্চিত হয়।

জেলখানার দেয়ালের ওপারেও আছে বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা Read More »

“মা যখন সন্তানের কাছে বোঝা হয়ে যায়, তখন মানবতাই শেষ আশ্রয়!”

মজিদা বেগম (৬০), স্বামী-মৃত অসির আলীর স্ত্রী। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রামনগর গ্রামের এই অসহায় মা স্বামী মারা যাওয়ার পর সন্তানের অবহেলায় ভাত-কাপড়ের অভাবে ভিক্ষা করে জীবন চালাতে বাধ্য হন।তার তিন ছেলে বড় ছেলে ইছামিয়া দিনমজুর, মেজ ছেলে ফজল আহমদ সিএনজি চালক এবং ছোট ছেলে মুছা মিয়া টমটম চালক। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, জীবনের শেষ বেলায় এই মায়ের পাশে কেউ নেই।ভিক্ষা করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে তিনি অজ্ঞাতনামা হিসেবে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। বিষয়টি প্রথমে সংবাদ আকারে তুলে ধরেন প্রাইম সিলেটের সাংবাদিক ফরহাদ।গতকাল রাত আনুমানিক ১:২৫ মিনিটে ওসমানী মেডিকেলে ভিজিটে গিয়ে রকিব আল মাহমুদ এই মায়ের সঙ্গে দেখা করেন। তার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বণেন। তার কষ্টের গল্প সত্যিই হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও অর্থের অভাব এবং অভিভাবক না থাকায় তার অপারেশন পর্যন্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না।আলহামদুলিল্লাহ এবং তিনি এই মায়ের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।আমরা অনেকেই বৃদ্ধাশ্রমের বিপক্ষে কথা বলি। কিন্তু প্রশ্ন হলো**এই মায়ের মতো মানুষদের জন্য আমাদের করণীয় কী?**এমন কোনো মানবিক মানুষ কি আছেন, যিনি এই মায়ের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী?**এমন কেউ কি আছেন, যিনি আইনি ও সামাজিকভাবে সন্তানদের তাদের মায়ের প্রতি দায়িত্বশীল করতে আমার সঙ্গে কাজ করবেন?**এমন একজন মানুষ কি এগিয়ে আসবেন, যিনি এই মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে তার প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে সহযোগিতা করবেন?আজ মজিদা বেগমের ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয় এটি আমাদের সমাজের বিবেকের প্রশ্ন?আসুন, আমরা সবাই মিলে একজন অসহায় মায়ের পাশে দাঁড়াই। হয়তো আমাদের সামান্য উদ্যোগই তার জীবনে আবারও নিরাপত্তা, সম্মান ও ভালোবাসা ফিরিয়ে আনতে পারে।মানবতার এই আহ্বানটি বেশি বেশি শেয়ার করুন, যেন বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবার নজরে আসে এবং এই মা তার ন্যায্য অধিকার ফিরে পান।

“মা যখন সন্তানের কাছে বোঝা হয়ে যায়, তখন মানবতাই শেষ আশ্রয়!” Read More »